বাছুরেরা

মরমীর পায়ে এলার্জি।
অপার হয়তো একটু মুখচোরা।
মরমী কোলে ঘুমাইতে চায়,
কোলে নিয়া দোলাইতে হবে,
হাঁটতে হাঁটতে গানও গাইতে হবে।

অপার গোস্বা করে,
মরমী জোর করে।
একই জিনিস লইয়া টানাটানি করে–
সেই একই জিনিস হইতে পারে মোবাইল,
মায়ের হাত, বাবার কোল।

-------------------------

মরমী অপার আমার দুই মাইয়া।
হাসপাতালে হবার পরে পাল্টায়া ফেলার চেষ্টা করা যাইতো।
অপারের হাত-পা দুর্বল,
আমার মতোই অনেকটা,
ঘন ঘন ঠান্ডাও লাগে।

আরেকটু পোক্ত শরীলের কোন বাচ্চার লগে পাল্টাইয়া ফেলা যাইতো।
সমাজে ফর্সা মাইয়ার ইজ্জত বেশি,

আর কারো ফর্সা বাচ্চার লগে
ওদের নাম্বার পাল্টাইয়া ফেলতে পারলেই হইতো!

এখনো কি ট্রাই করা যায় না!
যদিও বাচ্চা আমারে ততো টানে না।

বাচ্চাদের থিকা দূরে দূরেই থাকি আমি।
তবু কোন একদিন জানা গেলো,
ওদের মায়ের পেটের ভিতর বড় হইতেছে ওরা!
পারমিশন লয় নাই একজনও!
সময় মতো বাইরে আনলো ডাক্তার।

এখনো ওরা চাইতে থাকে,
খাইতে থাকে,
শরম নাই,
বড় হইতে থাকে।

বাচ্চা আমারে ততো টানে না।
তবু মরমীর ঘুম ভাঙার পরে
আমি ওরে ইশারায় ডাকি,
দৌঁড়াইয়া আসে মরমী,
আমি কোলে লইয়া চুমাই।
স্কুল ফেরত রিক্সায় বইসা
অপারের মাথায় চুমা দিলাম দুইটা।

ঐদিন নাইবার পরে ভেজা মরমী
বিছানায় উঠে পড়ে, ভিজাইয়া দেয় বিছানা। খায়, ঘুমায়।
বিছানা শুকাইয়া যায়।
ঘুম ভাঙে বিকালে,
খোঁজে মরমী, পায় না, কান্দে–
‘আমার ভিজা, আমার ভিজা…!’

আমি হাসি, বুঝাবার চেষ্টা করি–
কেমনে ভেজে দুনিয়া, কেমনে শুকায়।
কারে কয় ভিজা, সে কেন থাকে না বিকালেও–
যেমন থাকলো এই তোশক-চাদর!

বুঝাইতে কি পারি আমি, ভুলাইয়া রাখি–
চকলেট দিলে যদি ভোলে!
মরমীকে পাল্টাইয়া ফেলা যাইতো আগে,
আরেকটু বুঝদার মাইয়া পাইতাম বুঝি!

তবু এই না বোঝা,
ভালো লাগে আমার!
বিছানা শুকাইয়া যাবার নিয়ম না জানা
আমারে দেখাইয়া দেয়
দুনিয়ার ভিতরে না দেখা দুনিয়া!
কেমনে
না দেখার ছবক লইয়া লইয়া
বানাইছি আমার নজর,
কেমন আন্ধা আছি বড়োর দেমাগে!

পাল্টানো হয় নাই,
আমার মাইয়াদের পালি আমি, লালি আমি।
লালন মানে না দেখার ছবক দিতে থাকা।
একদিন এতো বেশি বুঝবে না ওরা,
একদিন বড়ো হবে।

একদিন ওদের মনে জব্বর দুঃখ দিবো আমি–
মরণ হবে আমার,
মরমীর ভিজার মতোই
শুকাইয়া যাবো আমি।

একদিন ঐ ভিজা হারাইয়া ফেলার মতো
মন খারাপ হবে মরমীর,
অপারের,
কানবে–
‘আমার বাবা, আমার বাবা…!’।

তখনো কি বাঁইচা থাকবে আমার মা!
আমারে দুঃখ দেবে না বলে
আমার পরে মরতে চায় সে?

মনে হয় না।
যেমন এই ভাষা যত না আমার মা
তারচে বেশি আমার বাছুর!
আমি তারে পালি,
আমি তারে লালি।

ব্যাঙের যেমন কুয়া
তেমন কুয়া আমি,
আমার ভিত্রে পোনা দেবে আমার বাছুরেরা।
আমার বাছুরের মনে জব্বর দুঃখ দিয়া
মরণ হবে আমার।

-২ মার্চ ২০১৭

  • Zuba rahman

    টাটকা লেখা পড়া গেল 🙂