রক মনু

লাভ লাইফ

ইন্ডিয়ার প্রাইম মিনিস্টার ইন্দিরারে লইয়া কবিতা লিখছেন সুনীল, গুজরাটের বন্যা দেখতে আইতে মানা করতেছেন, বিমানে চইড়া…

তাইতো, এমন কবিতা লেখা কবির দায়িত্ব, হিস্ট্রিক্যালি কবিরা পাওয়ারফুলের অনুগত, মনার্কির টাইমে সম্রাটের বেডরুমের জানলার বাইরে খাড়াইয়া কবিতা শুনাইতো রাইতে, ডেমোক্রেসিতে পাওয়ার তো আইডিয়ালি জনতার হাতে, কবি তাই জনতার জানলার পাশে খাড়াইবেনই তো…গুড।

-------------------------

তবে, পোলাভাব ছাড়ার তো দরকার হয় নাই, সম্রাটও মোটামুটি পোলা, জনতাও মোটামুটি পোলাই তো! সুনীল তাই ইন্দিরার সেক্সলাইফ লইয়া একটা কমেন্ট করলেন, ভাতার মরার পরে ইন্দিরা সেক্স করে কিনা, পোলাদের লগেই নাকি লেসবিয়ান হইছে, নাকি ডিলডোঅলা খোজা–এগুলির ব্যাপারে কিউরিওসিটি নাই কমেন্টে, ইন্দিরার ব্যাপারে উনি জানতেন পুরা মনে হয়… বা আরো ঠিক মনে হয়, ভাতার মরার পর মা ইন্দিরার যা করা উচিত, সেক্সলাইফ যে সাসপেন্ড করা উচিত, সেইটাই বাতলাইয়া/মনে করাইয়া দিতাছেন সুনীল। ইন্দিরার জন্য তো কোনটাই এসেন্সিয়াল না–বাস্তবে হারেমও থাকতে পারে তার…

যাই হৌক, বাংলাদেশের বন্যা ভাবতে গিয়া মনে পড়লো সুনীলের কবিতাটা…:)।

“ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি

প্রিয় ইন্দিরা, তুমি বিমানের জানলায় বসে,
গুজরাটের বন্যা দেখতে যেও না
এ বড় ভয়ঙ্কর খেলা
ক্রুদ্ধ জলের প্রবল তোলপাড়ে উপড়ে গেছে রেললাইন
চৌচির হয়েছে ব্রীজ, মৃত পশুর পেটের কাছে ছন্নছাড়া বালক
তরঙ্গে ভেসে যায় বৃদ্ধের চশমা, বৃক্ষের শিখরে মানুষের
আপত্কালীন বন্ধুত্ব
এইসব টুকরো দৃশ্য—এক ধরনের সত্য, আংশিক, কিন্তু বড় তীব্র
বিপর্যয়ের সময় এইসব আংশিক সত্যই প্রধান হয়ে ওঠে
ইন্দিরা, লক্ষ্মীমেয়ে, তোমার এ কথা ভোলা উচিত নয়
মেঘের প্রাসাদে বসে তোমার করুণ কণ্ঠস্বরেও
কোনো সার্বজনীন দুঃখ ধ্বনিত হবে না
তোমার শুকনো ঠোঁট কতদিন সেখানে চুম্বনের দাগ পড়েনি,
চোখের নিচে গভীর কালো ক্লান্তি, ব্যর্থ প্রেমিকার মতো চিবুকের রেখা
কিন্তু তুমি নিজেই বেছে নিয়েছো এই পথ
তোমার আর ফেরার পথ নেই
প্রিয়দর্শিনী, তুমি এখন বিমানের জানালায় বসে
উড়ে এসো না জলপাইগুড়ি, আসামের আকাশে
এ বড় ভয়ঙ্কর খেলা
আমি তোমাকে আবার সাবধান করে দিচ্ছি—
উঁচু থেকে তুমি দেখতে পাও মাইল মাইল শূন্যতা
প্রকৃতির নিয়ম ও নিয়মহীনতার সর্বনাশা মহিমা
নতুন জলের প্রবাহ, তেজি স্রোত—যেন মেঘলা আকাশ উল্টো
হয়ে শুয়ে আছে পৃথিবীতে
মাঝে মাঝে দ্বীপের মতন বাড়ি, কাণ্ডহীন গাছের পল্লবিত মাথা
ইন্দিরা, তখন সেই বন্যার দৃশ্য দেখেও একদিন তোমার মুখ ফস্কে
বেরিয়ে যেতে পারে, বাঃ কী সুন্দর!”/সু.গ.

–২৭ জুলাই ২০১৬// রক মনু


—————-

দেশে বিধবাদের সেক্সলাইফ বহাল তবিয়তে থাকতে পারছে–এ তো একটা ভালো ব্যাপার; লিগ্যালি বিয়া ছাড়া পার্টনারদের লগে সেক্সলাইফ লিড করায় বাধা নাই এমনিতেই, সমাজেও এইটা ধীরে মাইনা নেওয়া হইতাছে, এমন কোন বিধবা একসাথে ৫ সিটে ইলেকটেড হইতাছেন–রাইভাল দলের তুমুল গসিপিং সেইটা ঠেকাইতে পারতাছে না–এ এক ফূর্তির ব্যাপার।

এই বিধবারা যদি ৭০/৭৫ বছরের হন তাইলে ফূর্তির ব্যাপার আরো বেশি; দেশে মেয়েদের সেক্সুয়ালিটি নিয়া ডমিন্যেন্ট ভাবনা মোতাবেক মেনোপজের লগে মেয়েদের সেক্সলাইফের একটা ভুল এবং নেগেটিভ রিলেশন আছে–মেনোপজ যেন বা সেক্সলাইফের এন্ডিং! বাস্তবে, মেনোপজ বরং সেক্সলাইফকে এনহ্যান্স করতে পারে, প্রেগন্যেন্সি লইয়া টেনশন ছাড়াই ইন্টারকোর্সে যাওয়া যাইতাছে, কন্ট্রাসেপশন খরচও কমলো–এক্সিডেন্টের ভয়ও থাকলো না আর; লগে যেসব মেয়ে বা তাগো পার্টনার মিন্সট্রেশনের টাইমে সেক্সুয়াল একটিভিটি সাসপেন্ডেড রাখতে চাইতেন তাগো জন্য মাসের ৩০ দিনই সেক্সসম্ভব হইয়া উঠতাছে; সো, মেনোপজ একটা স্টেট অব বাড়তি ফ্রিডম তৈরি করতে পারে।

সমাজের প্রধান বিধবারা এসব নিয়া বেশরম আলাপ করতে পারতাছে–এইটাতে আরামই লাগে আমার।

বাট কোন বিধবার সেক্সলাইফ লইয়া গালি দেওয়া সমাজে এমন বিধবাদের প্রতি স্টিগমা বাড়াবার আয়োজন; এবং এইটা বেআইনী। ব্যাপারটা সেক্সের মতোই অনেকটা; কনসেন্ট আছে তো মিউচ্যুয়াল ইন্টারেস্ট সেইটা, কোন এক পার্টের কনসেন্ট নাই মানে রেপ। এসব গালি দেওয়া আইন মোতাবেক নাগরিকদের পাওনা প্রাইভেসি এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার হককে তছনছ কইরা দেয়; সোজা কথায় ক্রাইম এইটা।

এইটা যদি রাজনীতিকরা করেন তাইলে সেইটা পলিটিক্যাল আচরণবিধিরও বরখেলাপ; সাম্প্রদায়িকতা এবং চরিত্রহনন সমানভাবেই বেআইনী–এগুলি পলিটিক্সে ইউজ করা যাইতে পারে না।

ওদিকে, …..(অন্য) প্রেমিক পাইলে ফা…র কী হবে–এমন কথায় আরো একটা প্রোবলেম আছে; এইটা কইলে মনোগ্যামাস হইতে সামাজিক প্রেশার দেওয়া হয় মেয়েদের, এই প্রেশারও বেআইনী; এইটা কোন লিগ্যাল অথরিটির জায়গা থেকে বলা হইলে সেইটা ওই প্রেশারকে আরো পাওয়ারফুল করে, লিগ্যাল হামলার কারণ হইয়া উঠতে পারে। দেশে পোলাদের মনোগ্যামাস না হওয়ার আইনী সুযোগ আছে–একের বেশি বউ একই সময় থাকতে পারে একজন পোলার, মেয়েদের তেমন সুযোগ নাই, হিজড়াদের বিয়াই তো হইতে পারে না। এই রকম একটা পোলা-ফেভারিং সিস্টেমে/আইনী কনটেক্সটে মেয়েদের মনোগ্যামাস হইতে প্রেশার দিতাছেন মেয়েদের হক বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার পাওয়া একজন ৭০ বছরের বিধবা মেয়ে–এইটা একটা আপসেট, সার্টেইনলি।

এর লগে আরো একটা আপসেট ঘটতাছে–এই অকেশনে শ্লীলতা/অশ্লীলতা বিষয়ক পুরানা নৈতিক শাসন পোক্ত করায় মন দিতাছেন পুরানা পুরানা মনেরা…

–০৪ অক্টোবর ২০১৫// রক মনু


খবর:

আরবের এই ব্যাপারটা আমাদের জন্য আরো খারাপ মনে হয়; ভারতে স্টেট তবু খাড়াইছে এখন পর্যন্ত, বাংলাদেশের নাগরিকরা তাও পায় না; আরবে আমাদের মেয়েদেরকে বান্দি হিসাবে সাপ্লাই দেয় বাংলাদেশ, বাট এমনসব অভিযোগে পাশে খাড়ানো তো দূর, অভিযোগই করা যায় না মে বি–মামলা না নেবার মতো ব্যাপার; দেশে ফেরত আইলে তবু মিডিয়ায় দুই-চারটা কথা তোলা যায়, ওই সব দেশে তো কোন আওয়াজই করা যায় না।

বাট আমি আরেকটু ভিন্নভাবে দেখতে চাই ব্যাপারটা–পসিবল কালচারাল ডিফরেন্স রিকগনাইজ করতে রাজি আমি।

ধরেন, আরবে বান্দির জব রেসপন্সিবিলিটির ভিতর কালচারালি সেক্সুয়াল সার্ভিস ইনক্লুডেড; আমরা তাইলে কি করবো? আমরা সেই কালচার খারাপ বইলা রায় দিতেই পারি; বাট প্লুরালিটি যদি মানতে রাজি থাকি আমরা তাইলে দাবি করবো, জব রেসপন্সিবিলিটি ক্লিয়ারলি বলা থাকতে হবে; সেইটা জানার পরে, পড়ার পরে যারা আগ্রহী তারা যাবে কাম করতে; একই সাথে, সেক্সুয়াল সার্ভিস ইনক্লুডেড থাকলে কেমন বাড়তি মজুরি পাওয়া উচিত, সেই সার্ভিসের ভিতরেও কি কি করা যাবে না (ধরেন, সোডোমি–যদি আপত্তি থাকে) সেগুলি লেখা থাকবে, প্রেগন্যেন্ট হইলে কী করা হবে, বাচ্চার উত্তরাধিকার কেমন হবে, অ্যাবরশান করার বিধি কেমন হবে–এর সবটাই লিখিত থাকবার পরে সেইটা কবুল করে/কনসেন্টের ভিত্তিতে বান্দি নিয়োগ করতে হবে।

আরো একটা কারণ আছে–এই ভাবে দেখতে চাইবার।

বাংলাদেশে বিয়ার বাইরে সেক্স করায় সামাজিক-আইনী বহু ঝামেলায় পড়তে হয়; যার লগে কেবল ইন্টারকোর্স করতে চায় একজন তারে বিয়া করতে বাধ্য করা হয়; এমনকি পুলিশও এই জবরদস্তিমূলক কাম করে–কয়দিন আগে চাটগায় যেমনটা নিউজ হইলো। দেশে এসব ঝামেলা হয় বলে কোন মেয়ে ঐ রকম জব রেসপন্সিবিলিটি দেইখা আগ্রহীও হইতে পারে।

আমাদের মনে রাখা দরকার, কবুল না করলে সেক্স নাই–ওইটা রেপ, তেমনি কবুল করার মাধ্যমে কেউ একটা সেক্স লাইফ লিড করতে চাইলে সেইটা ঠেকানোও বিরাট ক্রাইম–মানবিক হক বা মানুষের অটোনমি’র বিরোধী। দেশে বোন-মা’র সেক্স লাইফে যেই পরিমাণ নাক গলানো হয় তাতে অনুমান করা যায় যে, অমন জব রেসপন্সিবিলিটি লিখিত থাকলেও বহু ভাই-পোলা-শ্বাশুরি-বোন-মা-সমাজ বহু মেয়েকে অমন যৌন সম্ভাবনার দিকে যাইতে দেবে না।

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫// রক মনু


Warning: Unknown: write failed: No space left on device (28) in Unknown on line 0

Warning: Unknown: Failed to write session data (files). Please verify that the current setting of session.save_path is correct (/var/cpanel/php/sessions/ea-php70) in Unknown on line 0