রক মনু

হালচালের লগে লগে চালাই আমার কদম

আপনে যদি প্যারাবোলা চেনেন তাইলে আইন বুঝতে সুবিধা হবে, আর সার্কেল দিয়া সিকিউরিটি স্টেট বা অথরিটেটিভ স্টেট। যদ্দূর বুঝি, ইসলামের হারামের আইডিয়া বুঝতেও প্যারাবোলা কামে লাগতে পারে।

জিওমেট্রিক টার্ম এই প্যারাবোলা, এইটা এমন একটা টেরিটরি ইন্ডিকেটর যেইটার বর্ডার লাইন থাকার পরেও ইনফাইনিট স্পেস আছে ভিতরে, তার উপর এইটা স্পেসকে আটকাইতে না চাইয়া আরো বড় হইতে চায়।

-------------------------

আইন অমন একটা জিনিস, কী কী করা যাবে না–সেই বর্ডার লাইন ক্লিয়ার করে একটা প্যারাবোলার ভিতরে রাখতে চায় আপনারে; যা যা করতে মানা করা হইলো তা বাদে সবই করতে পারবেন আপনে, সবই লিগ্যাল। সো, মানা করা জিনিসগুলি বাদে ইনফাইনিট/বেশুমার জিনিস করতে পারেন আপনে–বর্ডার লাইনের ভিতরে ইনফাইনিট স্পেস আছে আপনার, আপনে তাতে পুরাই আজাদ

বাংলাদেশের মতো সিকিউরিটি স্টেট হইয়া ওঠা অথরিটেটিভ স্টেটগুলি ঐ প্যারাবোলারে সার্কেল বানাইয়া আপনারে আটকাইয়া দেয় পুরা। কী কী করা যাবে না–সেই বর্ডার না দেখাইয়া কী কী করতে হবে সেইগুলি কইয়া দেয়। আইন হইলো হেলদি লাইফ, অমন স্টেট সেইটারে বানায় প্রেসক্রাইবড লাইফ।

কেমন? ধরেন, আইনের এসেন্স (ঐ প্যারাবোলা) কইবে, জাতীয় নিশানকে লাথি মারা ক্রাইম; মানে, আপনে টুপি থেকে গামছা পর্যন্ত লাথি ভিন্ন ইনফাইনিট ব্যাপারে এস্তেমাল করতে পারবেন। আর অমনসব স্টেট কইবে, জাতীয় নিশান আপনাকে সবচে উঁচায় উড়াইতে হবে, দেখলে খাড়াইতে হবে, স্যালুট করতে হবে–এই তিন কামের সার্কেলের ভিতর বিহেভ করতে হবে আপনার।

আমার আক্কেল কয়, ইসলামের হারামের আইডিয়াটা আইনের এসেন্সের মতোই একটা প্যারাবোলা; এইটা আর ওইটা ওইটা করবেন না, ওগুলি বাদে ইনফাইনিট স্পেস থাকলো আপনার–নেয়ামত, প্যারাবোলা।

ইসলামের ভাবুকরা যখন ঐ সিকিউরিটি স্টেট আর অথরিটেটিভ স্টেটের/শাসনের ছাত্র হয় তখন এই ভাবুকরা ইসলামের প্যারাবোলাকে সার্কেল বানাইয়া তোলে। প্যারাবোলার ভিতরের ইনফাইনিট স্পেসে খোদার আজাদ বান্দারে সার্কেলের ভিতরে নিজেদের বন্দী হিসাবে রাখতে চায় অমন স্টেটের ছাত্র ভাবুকেরা।

–১৩ এপ্রিল ২০১৬


দেশের বাংলা মিডিয়ামের এসথেটিক বেসগুলি খেয়াল করেন।

নজরুল একজন বেস, মোল্লা-মৌলবীদের প্রতি টিটকারিই– ইতিহাসের এই ধাপে আইসা–নজরুল বইলা শিখায় যেন বাংলা মিডিয়াম; এই নজরুলরে আগাইয়া নেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ–বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, আলো বিতরণ করে করে এইটা আরেকটা বেস হইয়া ওঠে; আরেক বেস আছে হুমায়ুন আজাদ, তিনিও বিসাকে’র প্রজেক্টেরই পার্ট ইন ফ্যাক্ট–উভয়ই চোখে আন্ধার দেখেন খালি। আরেকটা বেস ধরেন, ওয়ালিউল্লাহ; বাট এই ওয়ালির অবস্থা নজরুলের মতোই–আর আর ওয়ালিরে নিখোঁজ রাখে বাংলা মিডিয়াম, লালসালুরে একমাত্র বানাইয়া তোলে; লালসালু কি?

লালসালু মাজারের ইতিহাস না জানার থেকে পয়দা হইছে, পীর-খাদেম-মৌলবীদের নিন্দামন্দ-টিটকারি ছাড়া বিরাট কিছু পাওয়াই কঠিন এই উপন্যাস থেকে; ওই উপন্যাসে মজিদের হাতে হেনস্থা হইয়া শহরে ফেরত যায় মডার্ন বিজ্ঞানমনস্কতা, বাংলা মিডিয়াম এখনো তার প্রতিশোধ নিতাছে যেনবা নাস্তিকতা দিয়া।

এর আগে থেকেই ‘আধুনিক বাংলা’ তৈরি হবার ইতিহাস আছে একটা; বিপুল পরিমাণ ফারসি আর কিছু আরবী শব্দ বাংলা থেকে তাড়াইয়া দেওয়ারে নাম দেওয়া হয় ‘আধুনিক বাংলা’ তৈরি হওয়া; ‘আধুনিক বাংলা’ বানাবার ঐ প্রজেক্ট বাংলা মিডিয়ামের বেসগুলি চালু রাখে সমানেই; নজরুল রিভল্ট করছিলেন বাট সেই নজরুলরে দূরেই রাখে বাংলা মিডিয়াম; ভাষা আন্দোলন নামে যেই জিনিসটা সেলিব্রেট করে বাংলা মিডিয়াম সেইটারেও ঐ ‘আধুনিক বাংলা’ রক্ষার মুভমেন্ট হিসাবে থিয়োরাইজ করছে বাংলা মিডিয়াম, আর আর বাংলারে খেদাইয়া দেবার চেষ্টাই চলে এখনকার ডমিন্যেন্ট ২১ ফেব্রুয়ারি।

আরেক বেস আছেন রঠা; উনি যে ধর্মে ব্রাহ্ম আছিলেন সেইটা গোপন রাখে বাংলা মিডিয়াম; ওনার গানগুলি যে ব্রাহ্মধর্মের প্রেয়ার সং–এইটা গোপন করার ভিতর দিয়া ওনারে প্রায় নন-বিলিভার সাজাইয়া রাখে; আর আছে, ওনার ‘মানবতা’র আইডিয়া; গান্ধী/কংগ্রেসের ক্যাম্পেইনের ভিতর দিয়া মানবতা নামের এই পদার্থ রিলিজিয়নের অল্টারনেটিভ হিসাবে প্রোপোজ করা হয়–এইটার ভিতরে কম্যুনালিজমের সল্যুশন খুঁজতে বলা হইতে থাকে; বাস্তবে মানবতাবাদীরা আরেকটা কম্যুনিটির বেশি কিছু হইতে পারে নাই; তার উপর, মানবতাবাদরে জেন্ডার ইস্যুর সমাধান হিসাবেও প্রোপোজিং চলতে থাকে, বাস্তবে যেটি এন্টি-উইমেন ভাবনা-কালচারকে সাসটেইনেবল করে তুলতে থাকে।

লালনকে যদি বেস ধরেন, দার্শনিক লালন বেস হিসাবে নাই বাংলা মিডিয়ামে, জগৎ-সংসার বোঝার আরেকটা প্যারাডাইম নয় মিডল ক্লাসের লালন, এই লালন হইলো, জাত-পাত-আশরাফ-আতরাফ বিরোধী লালন মাত্র–তুমুল হিউম্যানিস্ট।

বাংলা মিডিয়ামের ইত্যকার বেস কেমন ‘শিক্ষিত’ বানাইবে? এরা যখন হকিন্স নিয়া রিপোর্ট করবেন তখন “ঈশ্বর নেই: স্টিফেন হকিন্স”–এর বাইরে কোন হেডিং পয়দা করতে পারবেন?

১৪ আগস্ট ২০১৫


‘নরেন্দ্র মুক্ত’ নামে কাউকে চেনেন না মনে হয়, আমিও চিনি না; আমি আসলে ‘হুমায়ুন আজাদ‘ নামের ভিতর যে কতক মোসলমান বাঙালি বইসা রইছে সেইটা বাইর কইরা দিলাম, তরজমা করলাম নামটারে 🙂!

তো, নিজেরা মোসলমান বাঙালি না বইলা যাগো দাবি আছে এবং বাঙালি মোসলমান পরিচয় দিলে গালাগালি করেন তারা যে আসলে কি দাবি করেন, বোঝেন না বালও!

ধরেন, আপনে উৎসর্গ না কইয়া কইলেন কোরবানি, বলি না দিয়া ছদকা দিলেন, আশীর্বাদ না কইরা দোয়া করলেন, সম্মুখে না যাইয়া সামনে গেলেন, আমন্ত্রণ/নিমন্ত্রণ কম কম দিয়া দাওয়াত দিলেন–এইসব আর কি! ক্রিসমাস, হ্যালোউইন, দুর্গা পূজার লগে বছরে দুয়েকটা ঈদও করলেন আর কি!

এইসবের মানে হইলো ডেমোক্রেটিক হওয়া, নাথিং এলস্! বাংলাদেশে আপনে ডেমোক্রেটিক না হইয়াই কেবল কালচারালি মোসলমান বাঙালি না হইতে পারেন! এইসব রাখার পরেও আপনে সেক্যুলার হইতে পারেন, হিন্দুও হইতে পারেন, বৌদ্ধও হইতে পারেন! দেখেন, বলিউডে সালমান খান ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ মানে গণেশ হইলেও মোসলমান থাকতে পারলেন কিন্তু! অমিতাভ বচ্চন ‘জনতা জনার্দন’ কইয়াও কিন্তু সেক্যুলার হইতে/থাকতে পারছেন! এমনকি রাকেশ রোশন কৃষ বানাবার পরেও সেক্যুলারই কিন্তু! এমনকি বাংলাদেশের সেক্যুলাররা মোদিরেও ততো হিন্দু হিসাবে দেখে না, বিজেপির প্রাইম মিনিস্টারের ওয়াজ লাইভ দেখায় বাংলাদেশের সবচে সেক্যুলার টিভি 🙂!

আরেক দিক থেকে ভাবেন, কম্যুনাল আইডেন্টিটি তো বহু হইতেই পারে দেশে, এথনিক আইডেন্টিটিও; আপনে যদি একটা মাত্র এথনিক আইডেন্টিটির দখলে বাংলাদেশটারে ভাবতে থাকেন সেইটা কন্সটিটিউশনাল ক্রাইম–এখনকার আপত্তিকর কন্সটিটিউশন মোতাবেকও! সেইটা কম্যুনাল পরিচয় রাখেন বা না রাখেন–যেকোন বাঙালি হিসাবেই! একটামাত্র পরিচয়ের প্রেশার ফ্যাসিজমের দিকে হাঁটতে থাকা, ভেরি ব্যাড।

–২ অক্টোবর ২০১৬/ফেসবুক


কবিতা পড়তেছেন

ওরে আল্লাহ ডরাইছি …😁বিদ্রোহী কবিতার এইরকম আবৃত্তি শুনে আমাদের জাতীয় কবিও নিশ্চয়ই অট্টহাসিতে ফেটেঁ পড়েছেন।😂😂দেখুন ভিডিওটি

Posted by Bonna Siddiqui on Wednesday, August 17, 2016

বিদ্রোহী কবিতার ইমোশন এমনি, ভালো রিডিং।

নজরুলকে কোলকাতার দালাল শান্তিনিকেতনি ইস্ত্রি দিয়া পরিপাটি করলে সৌমিত্র-শিমুল মুস্তাফা-আলী যাকেরিয় ভঙ্গিমা পয়দা হয়।

বিদ্রোহী কবিতাটা কোলকাতার কন্ট্রোল্ড আবেগের বাংলায় লেখা, কিন্তু নজরুল সেই বাংলারে পুশ করতে করতে মাত্রা ছাড়াইছেন, যেই আবেগ ঐ বাংলা ধরতে নারাজ সেই আবেগ ঢুকাইতে পারছেন নজরুল। এইটা কুদরতি ক্ষমতা, এমনে পারার ঘটনা আর কি আছে খুব!

শান্তিনিকেতনি ভঙ্গিমা সেই আবেগরে সাইজ করেন এখন রিডিং মারফত কবিতার আবেগ কমাইয়া দিয়া। এই রিডার কোলকাতার লগে ঘোট পাকাইতে রাজি হন নাই, ইনি বিদ্রোহীরে আজাদ/মুক্ত করছেন দখলদারের হাত থেকে।

–১৮ আগস্ট ২০১৬


ইংরেজ আমলে কোলকাতা হিন্দি ঠেকানোর ছলে আসলে ফার্সি/মোসলমানিত্ব ঠেকাইছে–যেন মোসলমান (আসলে মোঘল) দিল্লীর থেকে আজাদ হইতেছে তখনো! আমরাও কোলকাতার লগে জয়েন করছি সেই কম্যুনাল প্রজেক্টে; তার নেসেসারি ফল হইলো, জনতার দিকে পিঠ দিয়া হাঁটতে থাকা। হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে জনতার থেকে এতো দূরে আমরা গেছি যে ইংরাজ চইলা যাবার পরে আমরা এখন হিন্দির প্রজা হইয়া পড়লাম, ঠেকাইতে পারলাম না!

এত বল কই পাইলো হিন্দি? পাইছে জনতার লগে কোলাকুলির ভিতর দিয়া, হিন্দুয়ানী করতে হইলেও সেইটা ফার্সি দিয়াই করছে, কম্যুনাল ছাঁকনি দিয়া ফিল্টার করে নাই, ভগবতগীতার ব্লিচিং পাউডার দিয়া হিন্দিরে ধোলাই করে নাই–আসলে পারে নাই, অমন সব প্রজেক্ট ডাব্বা মারছে বলিউডের পানিতে, তারে ইভেন জলও বানানো যায় নাই…!

আমরা জিন্দাবাদ তরজমা কইরা ‘চিরজীবী হোক’ কইতে থাকলাম, হিন্দি দেখলো, ‘গরু জিন্দাবাদ’ কইলেও এনাফ হিন্দুয়ানী করা গেল, সেই রামদায়ও কম খুন হয় না তো আদমী…

বাংলা চিরজীবী হোক :)।

–৩১ জুলাই ২০১৬