রক মনু

ঢাকা সাহিত্য সম্মেলন এন্ড দর্শনের সিস্টার-ইন-ল

https://www.facebook.com/mohammad.romel.3/posts/10205125434557236?comment_id=10205126916514284

 

-------------------------

এইটা ‘ঢাকা সাহিত্য সম্মেলন’ নিয়া কিছু ঘটনা বিষয়ে একটা নোট; এইখানে আমার কমেন্টটা দ্যাখেন:

Rezaul Karim:: কোন একটা সম্মেলন (সাহিত্য বা বুদ্ধিবৃত্তিক) যখন ফরহাদ ভাই’র ব্যানারে বা তাঁরেই সামনে রাইখা হইতে চায় না, বাট তাঁরে সাথে রাখতে চায়–সেই সম্মেলন বা তার প্রোপ্রাইটরদের নিয়ে ভাবা দরকার।

বুদ্ধিগতভাবে উনি ইন-অ্যাকটিভ থাকলেও এমন একটা সম্মেলনের যে রিঅ্যাকশন হবে তাঁর ক্রেডিট অন্তত ৮০% নেসেসারিলি ফরহাদ ভাই’র; বাংলাদেশে বা পশ্চিমবঙ্গে বা অন্যান্য দেশে এই সম্মেলন পুসকে এক লিটলম্যাগীয় ঘটনার বেশি কিছু হইয়া উঠতে পারে কেবল ফরহাদ ভাইরে দিয়াই; এবং এমন এক সম্মেলন মিডিয়া কাভারেজ-ওর্দি হবেও ফরহাদ ভাই’র কারণে।

বাট, এই সম্মেলনের পসিবল সাফল্যে ফরহাদ ভাই’র ওই বিপুলতা গোপন রাখতে চাইছে প্রোপ্রাইটররা; যেনবা, সাফল্যে ফরহাদ ভাই’র ভাগ ৫%–১০%, উনি একজন অংশগ্রহণকারী মাত্র; এগুলি যেনবা অন্য অন্য প্রোপ্রাইটরদের নামে হইছে, বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া অ্যাটেনশন ইত্যকার প্রোপ্রাইটরদের এচিভমেন্ট।

ফলে, এমন একটা সম্মেলন আসলে সমাজে কিছু ‘ফেক বড়ো’ তৈরির চেষ্টা, হওয়ার ধান্দা।

যা তাঁর তা কেন সে দাবি করবে না–এমন একটা আইনী-এথিক্যল পজিশন নেবার বাইরেও এই যে কতগুলি ‘ফেক বড়ো’ সমাজে আছড়ে পড়া থেকে দেশরে বাঁচাইলেন ফরহাদ ভাই–এজন্য সম্মেলন চেষ্টার বাইরের লোকেরা ধন্যবাদ দিতে পারে ওনারে।

————

 

আমার কমেন্ট ফরহাদ মজহারের চিন্তা পাঠচক্রের দুয়েকজন লাইক করছেন দেখলাম; চিন্তা পাঠচক্র বা ফরহাদ ভাই’র বিভিন্ন অর্থে ঘনিষ্ঠ লোকজনের কোন আপত্তিও পাওয়া গেল না; ‘ঢাকা সাহিত্য সম্মেলন’ নিয়া ফরহাদ পক্ষেরও কোন আপত্তি পাওয়া গেল না। গুড। এতে বেশ কিছু ব্যাপার ক্লিয়ার হইলো এবং আরো কিছু ব্যাপার ভাবার স্পেস তৈরি হইলো:

১. ঢাকা সাহিত্য সম্মেলন এবং তার পার্ট হিসাবে ঘটমান ‘উদযাপনপর্ব’, ইত্যকার ঘটনা/সেমিনার/সম্মেলনের অন্তত ৮০% ক্রেডিট ফরহাদ ভাই’র একার– এইটা নির্বিবাদে মাইনা নিলেন ফরহাদ ভাই বা তাঁর পক্ষ।

২. ফলে এই ধরনের জিনিসগুলিরে ফরহাদ ভেঞ্চার হিসাবে একটা ছোট নড়াচড়া বলাটা ভ্যালিডিটি পাইলো।

৩.  ফলে এইসব জায়গায় প্রেজেন্ট থাকা লোকজন–যেমন, সুমন রহমান, মোহাম্মদ আজম, তৈমুর রেজা, মোহাম্মদ রোমেল, আতিক, জহির–ইত্যকার মানুষজনকে ফরহাদ ভাই’র ডানহাত, বামহাত, নখ, চুল, উইং হিসাবে ট্রিট করলেই চলছে। এনারা ঘোষণা দিয়া ডিস-অ্যাসোসিয়েট করার আগে পর্যন্ত ‘যেনবা আমরা ফরহাদ ভাই’র লগেই কথা কইতেছি’–এমনভাবে আলাপ করতে পারি।

৪. এই ধরনের কায়-কারবার গুলি ওনাদের ‘কালেকটিভ এফোর্ট’ বলে একটা বেনামি জিনিস হিসাবে দাবি আছে ফরহাদ ভাই বা এই লোকগুলির; বাইরের সবার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, একে ‘ভাওতা’ হিসাবে না ভাইবা ফরহাদ ভাই’র পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি হিসাবে স্নেহ করার।

৫. ‘কালেকটিভ এফোর্ট’ ভাইবা যারা এইগুলির মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যাপার-স্যাপার আশা করতে থাকেন এবং সেই রকম একটা উদারতর স্পেসে অ্যাকটিভ থাকার (বিপ্লবের) লোভে ফরহাদ ভাই’র কাছে যাইতে চান তারা এখন থেকে আর হতাশ (আলমগীর নিষাদ, রাইসু, মাহবুব মোর্শেদ বা সা.শু’র মতো) হবেন না; কেননা, এর পরে এমন লোকই আর থাকবে না আশা করি; সকলে আগে থেকেই জানবেন, ফরহাদ ভেঞ্চারগুলি খুব লজিক্যাল/বৈধ কারণেই গণতান্ত্রিক স্পেস নয় কোন, ফরহাদ ভাইকে মান্যতাই এগুলির কামসূত্র (কর্মনীতি)। এসব ভেঞ্চারে যারা এখন কাম করতাছেন তারা এইটা জাইনা/মাইনাই করতাছেন।

৬. ফলে বিপ্লব করতে কেউ ফরহাদ ভাই’র কাছে গেলে বিপ্লবের ডেফিনিশন বাইরে থেকে নিয়া যাবেন না এখন থেকে; কেননা, একটা ফরহাদ ভেঞ্চারে বিপ্লবের ডেফিনিশন এবং কামসূত্র এসেন্সিয়ালি একান্তভাবেই ফরহাদ ভাই’র হবার কথা, অন্য যেকোন পজিশন সেইখানে নেসেসারিলি প্রতিক্রিয়াশীলতা, আত্মপরতা/নার্সিসিজম।

বিষয়গুলি ক্লিয়ার হবার কারণে অনেকেই হয়তো ফরহাদ ভাই’র কাছে যাবার আগ্রহ হারাইবেন; তবে বিপ্লব/মোর ডেমোক্রেটিক স্পেসে অ্যাকটিভ থাকা ইত্যাদির বাইরেও ফরহাদ ভাই’র কাছে যাবার কারণ পাওয়া যাইতে পারে। যেমনটা সলিমুল্লাহ খানের কাছে যাবার কারণের মধ্যেও থাকতে পারে। ব্যাপারটা বরং একটা উদাহরণের ভিতর দিয়া কই:

এখনকার নাগরিক সমাজে আগের কতগুলি জিনিস আর নাই; গ্রামে গঞ্জে এখনো আছে হয়তো বা আগে ছিলো বাট নাগরিক সমাজে থাকাটা কঠিন হয়ে গেছে এমন একটা জিনিস হইলো সেক্স এডুকেশনের ট্রেডিশনাল সিস্টেম। বেয়াই-বেয়াইন বা ভাবী বা গ্রান্ডপ্যারেন্টস ট্রেডিশনাল যৌনশিক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেন; নাগরিক সমাজে এই লোকগুলি তেমন আর কানেকটেড না থাকায় সেক্স এডুকেশন ব্যাপারটা বেশ সমস্যা হইয়া উঠছে; ট্রেডিশনাল যৌনশিক্ষার কিছু পদ্ধতি এখন অ্যাবুসিভ হিসাবেও ভাবা হচ্ছে মনে হয়; বাট বিপরীতে কোন অল্টারনেটিভ সিস্টেম ডেভলাপ না করায় পর্ন ইত্যাদি রেফারেন্স অব সেক্স এডুকেশন হইয়া উঠতে পারছে।

একই ধরনের ব্যাপার জ্ঞানের অন্য অন্য বিভাগেও ঘট(তা)ছে মনে হয়; একাডেমী তৈরি হইলেও সেগুলি চাকরির কোচিং সেন্টার মাত্র! এমন দূরবস্থার মধ্যে ফরহাদ বা সলিম ভাই’র কাছে আপনেরা যাইতেই পারেন। সেক্সের ছোটখাট বিভিন্ন বিষয় যেগুলি আপনার কাছে খুবই জটিল মনে হইতাছে কিন্তু ভাবীর কাছ থেকে যেমন আশ্চর্য সহজে  ‘পাজল সলভিং’ ট্রিকের মতো শিখে নিতে পারেন, তেমন উদ্দেশ্যেই ফরহাদ ভাই’র কাছে যাইতে পারেন; দর্শন-সাহিত্যের কতগুলি ‘পাজল সলভিং’ শিখে আসতে পারেন ওনার কাছ থেকে। আমার দোয়া থাকল।

–১৪ নভেম্বর ২০১৪