রক মনু

হুমায়ুন আজাদ লইয়া চঞ্চল আশরাফের লগে

চঞ্চল আশরাফ:

বিয়ের পর এক ছাত্রী বোরকা পরতে শুরু করে। সে তাঁর রুমে ঢুকলে, তিনি এই পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলেন। সে বলল, ‘আমার স্বামী চায় না বোরকা ছাড়া বাইরে যাই।’

-------------------------

‘কিন্তু তুমি যে সবাইকে দেখে বেড়াচ্ছ, তোমার স্বামীর তাতে আপত্তি নেই?’

মাথা নিচু করে সে বসে রইল।

তিনি বললেন, ‘তুমি কার জীবন যাপন করো, তোমার স্বামীর, না নিজের?’

নীরবতা।

‘তোমাদেরকে নিয়ে, মানে নারী নিয়ে আমি একটা বই লিখছি। আচ্ছা, প্রতিদিনই কি তোমরা শারীরিকভাবে মিলিত হও?’

হঠাৎ এই প্রশ্নে হতভম্ব হয়ে গেলাম। শোঁ-শোঁ শব্দে ফ্যান ঘুরছে। তার না-ঠাণ্ডা না-গরম হাওয়ায়, রুমে আমরা তিনজন। কিন্তু আমি যে বসে আছি তাঁর সামনে, সেটা কি তিনি খেয়াল করছেন না? সেই ছাত্রীর দিকে তাকালাম। তার নড়াচড়াতেই বেশ বোঝা গেল, প্রশ্নটির জন্যে সে প্রস্তুত ছিল না এবং লজ্জা পেয়েছে। তবু বলতে পারল, ‘প্রতিদিনই না, তবে প্রায়ই। এসব প্রশ্ন আর করবেন না স্যার।’

একটা সিগারেট ধরিয়ে তিনি বললেন, ‘একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তুমি আমাকে খুব সাহায্য করেছ। এটা যখন পেরেছ, আর একটা প্রশ্নের উত্তর তুমি দিতে পারবে।’ সে কী-যেন বলতে চাইল, কিন্তু তাকে হাত তুলে থামিয়ে তিনি বললেন, ‘অর্গ্যাজম হয়েছে কখনও?’

সে বলল, ‘অর্গ্যাজম কী স্যার?’

তিনি বললেন, ‘আমি আজ আর তোমাকে কোনও প্রশ্ন করবো না। এখন বলো, কেন এসেছিলে?’

‘একটা টিউটোরিয়াল পরীক্ষা আমি দিতে পারি নাই স্যার।’

‘কেন?’

‘বিয়ের কারণে।’

‘তোমার?’

‘জি, স্যার।’

অ্যাশট্রেতে ছাই ফেলে তিনি বললেন, ‘এখন তো তুমি স্বামীর জীবন যাপন করছ। ভাষাতত্ত্ব তার কোনও কাজেই আসবে না। তা হলে পরীক্ষা দিতে চাও কেন?’

(আমার হুমায়ুন আজাদ / ২০১০)

রক মনু:

আলোয় ঝলসাইয়া যাওয়া মাস্টার! ঐ মাইয়া মে বি সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্টের মডার্ন আইডিয়াও ততো জানতো না বা পাশ করতে চাওয়ায় সাহস পায় নাই; নাইলে কমপ্লেইন করতে পারতো গায়ে পইড়া এমন পার্সোনাল সওয়াল করায়। এইটারে কয় লেখকের রিসার্চ হামলা; কলোনিয়াল টাইমে নেটিভদের এমন হামলা করতো সাদা লেখকেরা।

ঐ ভাতারের ভাষাতত্ত্ব কোন কামে না লাগার পরেও বউ যদি টিউটোরিয়াল দিতে চায় তাতেই তো প্রুভড হয় যে, নিজের লাইফ লিড করায় ততো মুশকিল হইতাছে না মাইয়ার।

ওদিকে, ভিন পুরুষ দেখায় তো আপত্তি করতাছে না ভাতার, আজাদেরা তো উল্টা–নিজেরে দেখাইতে বাধ্য কইরা অন্য পুরুষ দেখায় বাধা দেয়–নিম্ফোম্যানিয়াক নাম দেয়!

এদিকে, বউ চায় বইলা আপনে যখন নাভির নিচটা ধুইয়া আইলেন সাবান দিয়া, আপনে কি তখন ভাবতে থাকেন যে, নিজের লাইফ লিড করতে পারতাছেন না!

আর মাস্টারদের কিছু সওয়ালে চুপ থাকা যে স্রেফ ডর, জবাবের অভাব নয় সেইটা কবে বুঝবে এই বেকুবেরা!?

বেকুবেরা আরো বোঝে না যে শব্দ আর আইডিয়া দুই জিনিস; অর্গাজম কি?–এই সওয়াল করা হেজাবি বউ শরীলের জ্বালা না মেটায় ভাতারের পৌরুষ লইয়া মশকরা করতে পারে, ‘অঙ্গ যায় জ্বলিয়া…’ গানও গাইতে পারে নেতানো ভাতারেরে হাতাইতে হাতাইতে…!/২ মে ২০১৬