রক মনু

আমাদের ক্লিনিক জিন্দেগি

ভালো একটা সরকারের দুশমন অনেক, দুশমনেরা স্যাবোটাজ করতেই থাকে; ইন ফ্যাক্ট, ভালো সব কিছুই স্যাবোটাজের ঝুঁকিতে থাকে হরদম! ধরেন, আমাদের গার্মেন্টস নামের ভালো একটা সেক্টরে লেবারদের উসকাইয়া দেয় কারা কারা যেন–ঈদের ১৫/২০ দিন পরে পরেই বেতন-বোনাস দেবার পরেও, ভালো মজুরি দেয় তবু! এতো ভালো মজুরি যে, লেবারদের ওভারটাইম করতেই ইচ্ছা করে খালি! মালিক-ম্যানেজাররা ইভেন যৌনসেবাও দেন লেবারদের–এমনকি না চাইতেও! ওদিকে, ভালো সরকারের কথা ভাবেন; স্ট্যালিন বা হিটলারের ভালো সরকার এতো এতো স্যাবোটাজের মুখে পড়ছিলো যে কেজিবি বা গেস্টাপো দিয়া আম-জনতারে স্যাবোটাজের হাত থেকে বাঁচাইতে হইছে!

এ এক বিষম জ্বালা! অবুঝ জনতার জন্য হাচাই যদি ভালো কিছু করতে চান, তাইলে এমন সব থ্রেট আর ঝামেলায় পড়তেই হবে আপনার। এমন জনতারে তাই কখনো হয়তো বেহুশ কইরা নিয়া লিক্যুইড খাবার দিতে হবে নাড়িতে, বেহুশ দশায় স্বাস্থ্য ভালো হইতে থাকবে, হুশ ফেরার পরে এমন সরকারের শুকরিয়া আদায় করবে। আমাদের ১৪ দলীয় সরকার এখন যেমন সেবা দিয়া যাইতাছে দেশটারে–একটা পাক-পবিত্র ক্লিনিকে আছি যেন আমরা–বেহুশ দশায়, বাট এই বেহুশ দশাতেই স্বাস্থ্য ভালো হইতাছে আমাদের!

-------------------------
কিন্তু দুশমনেরা ঘুমায় না কখনোই, স্যাবোটাজ করতেই থাকে! এই যে দ্যাখেন, সরকারি সব কন্সট্রাকশনে দেবার কথা খোয়া-সিমেন্ট-বালি-রড, স্যাবোটাজকারীরা দিতাছে বাঁশ আর কাদা। এরে, কেউ কেউ দুনিয়ার পয়লা অর্গানিক আর্কিটেকচার (মডার্ন) কইলেও, এখনি এই টেকনোলজিতে যাওয়া যাবে না; দেশের সব নদীর উজানে যদি বাণ মারা হইয়া যায়, দেশের বাতাসের বিশ্রী হিউমিডিটি যদি কমে, বিষ্টি হওয়া যদি একেবারেই থামাইতে পারি আমরা তাইলেই কেবল ঐ অর্গানিক বিল্ডিং বানানো উচিত হবে, তার আগে নয়। এখন অমন বিল্ডিং বানাইলে টেকসই হবে না মোটেই।
সো, এগুলি এখন ঠেকানো দরকার! এই চক্র এতোই বেপরোয়া যে, সরকারী দলগুলিতেও ঢুইকা পড়ছে তারা; আরেকটা জ্বালা হইলো, বেহুশ কইরা রাখা জনতার স্বাস্থ্য হইয়া ‌ওঠার আগেই যাতে কাতুকুতু দিতে না পারে কেউ সেইজন্য একটা ফ্রেন্ডলি বিরোধী দল রাখায় তারাও পাওয়ার এবিউজ (ক্ষমতার অপব্যবহার) করতে পারতাছে, ঐ দুশমন তাগো মাঝে ঢুকলেও স্যাবোটাজ করতে পারতাছে আরামে!
একটা উপার বাইর করতে হবে আমাদের! ইতিহাস আমাদের আদরের জিনিস, সেই ইতিহাসেই আমরা এর নিদান পাবো মনে হইতাছে। একটা সময় আছিলো যখন সারা দেশে পাট পঁচা গন্ধে ভইরা যাইতো; আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ ভালো একটা সমাধান করছিলেন এর। সারা দেশে গন্ধ-স্যাবোটাজ করা সেইসব কৃষক মানা করলেই তো শুনতো না! এরশাদ সাহেব তাই অগন্ধী পলিথিনে দেশটারে ভরার সিস্টেম করলেন, পঁচবেও না, গন্ধও হবে না! চাইলের বস্তা বা বাজারের ব্যাগ থেকে দড়ি-পাপোশ তক প্লাস্টিকের হইতে থাকলো, পাটকল সব বন্ধ; অটোমেটিক সিস্টেম, পাট নাই দেশে, চাষও নাই, গন্ধও নাই!
আরো দ্যাখেন, দেশের সব মাটি পোড়াইয়া ফেলতেছিল কুমাররা, মাটির হাড়ি-পাতিল-কলসি বানাইতো তারা; আর কয়েক বছর চলতে দিলে আমরা হয়তো ইট বানাবার মাটি পাইতাম না আজকে! আমরা এলুমিনিয়ামের উপর ভ্যাট-ট্যাক্স তুইলা দিলাম প্রায়; সিরামিকের ইজ্জত বাড়াইয়া দিলাম সমাজে। নগদ ফল পাইলাম আমরা! দেশে কুমার নাই আর প্রায়! তার উপর, কুমাররা ট্রেশনালি হিন্দু হওয়ায় ভারতে পাচার কইরা দিলাম তাগো! দেশটারে বাঁচাইলাম এইভাবে পুইড়া যাইতে দিলাম না–মাটি-ই তো দেশ!
এখন আমরা ভাবতেছি আখ চাষ লইয়া; দুই-চার বছরেই মে বি সুরাহা হবে একটা; বিদেশি চিনি আনতেছি ম্যালা, ট্যাক্স-ভ্যাট তেমন রাখি নাই; এই ইম্পোর্টাররা নিজেদের গরজেই দেশি চিনির কল আর সাপ্লাই চেইনটারে মেসমার কইরা দেবে; আশা করা যায়, আখ চাষ বন্ধ হবে কিছু দিনেই। ও হ, মধু! সুন্দরবনের ওয়াইল্ড লাইফের উপর হামলা করে মৌয়ালরা; আমরা ডাবুর মধু আনতেছি, কের আর দেশি মধু! আবার, রাইতে সুন্দরবন আন্ধার থাকে বইলা মৌয়ালদের কন্ট্রোলে কিছু মুশকিল আছে; আমরা তাই, পুরা সুন্দরবনে কারেন্ট দিবো, রামপালে চলতাছে কাম, পাশের দেশের লগে ফ্রেন্ডশীপ থাকলে, সেই দেশের কোম্পানি আমাদের দেশে ইম্পোর্ট করার বেলায় ট্যাক্স দিতে না হইলে কাম আগায় ভালো। আলোকিত সুন্দরবনের ওয়াইল্ড লাইফে রাইতেও আর কেউ হামলা চালাইতে পারবে না!
এইসব ইতিহাসের ছবক আমরা বাঁশ-কাদা ইস্যুতেও কামে লাগাইতে পারি। রডের মতোই টন হিসাবে বাঁশ বেচার আইন করতে হবে একটা; তারপার, বাঁশের উপর ১০০০% ভ্যাট বসাবো আমরা, আর রডে দিবো ভর্তুকি, ধরেন ৭৭%। কয়েক বছর এই সিস্টেম রাখলেই বাঁশে আগ্রহ কমবে আশা করা যায়। বাঁশের প্রোডাকশনই থামাইতে পারবো আমরা এইভাবে। বাড়তি সিস্টেম হিসাবে ফ্রেন্ডলি দেশের কয়েকটা রড কোম্পানিরে মনোপলি দিলেই ওরা রডের ব্যাপারটা এনসিওর করতে পারবে ভালো; ওরা এফিশিয়েন্ট, ওদের সিকিউরিটি না পাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিনে সাফ কইরা ফেলতো ডাকাতরা; না না, হ্যাকাররা। হিউমিডিটি কমলে আবার আমরা বাঁশের চাষ করবো, বা ইম্পোর্ট; ইম্পোর্ট কোন প্রোবলেম না তো, রেমিটেন্স আছে আমাদের, এখন আমরা মাল্টি-পারপাস বান্দিও এক্সপোর্ট করতেছি–ফরেন কারেন্সির রিজার্ভ বাড়ছেই।
 
বেহুশ কইরা রাখা জনতার স্বাস্থ্য ভালো হবার আগে সকল স্যাবোটাজ আর কাতুকুতু ঠেকাইতে হবে, আমাদের ক্লিনিকের বস এ ব্যাপারে সিরিয়াস।
 
১৫ জুন ২০১৬