পাবলিক ডায়েরি: ডায়লগ

প্রগতিশীল বা ইসলামিস্ট, হিন্দু বা মুসলমান, পাহাড়ি বা বাঙালি, সব মৃত্যুই আমাদের। তারা একই পরিবারের বিভিন্ন সন্তান, পিতা, ভাই, পুত্র।
–ফারুক ওয়াসিফ
============
ফা.ও. ভাবনার গোড়াটা নজরুলে:
“হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার”/কান্ডারী হুশিয়ার, নজরুল
নজরুল তবু বেটার–মানুষে যাইতে পারছেন, পরিবারে থাকেন নাই। বাট দুই জনেই প্রোবলেমটা হইলো–কতগুলি খুন জায়েজ হিসাবেই মানছেন তাঁরা–অমানুষ হইলে তারে খুন জায়েজ বা আপনের মায়ের অত পোলামাইয়া না থাকলে; ফা.ও. ভাবনায় কাজিন-টাজিন খুন করলে একটু আপত্তি করতে পারেন একটু, তবে এক্সটেন্ডেড পরিবারের বাইরের হইলে খুন করাই তো যায় :)!
প্রোবলেমের আরেকটা দিক হইলো–সমাজের এক্সপেরিয়েন্স মোতাবেক দেখলে পরিবারের লোকদের খুন করা মোটেই আনকমন ব্যাপার না; আরেক ধর্ম বা জাতি তো দূর–একই মজহাবের মেম্বার থাকা নিউক্লিয়ার ফেমিলির বইনরে স্রেফ পিরিত করার কারণে খুন করে, ভাইরে খুন করে জমির জন্য, স্বামীর উপর খেইপা পোলা-মাইয়া খুন করে মা, ঝি-কে মাইরা বউরে শিখানো তো আমাদের ঐতিহ্য, বউ খুন তো হরদম ঘটনা। ওদিকে, বিজ্ঞানমনস্করা ধার্মিকদের পশু/ভেড়া/গরু নামে তো হামেশাই ডাকে; রাজাকাররা ছাগু। সো, নজরুল যেই অমানুষ খুনের অনুমোদন দিছেন তাতে বাংলাদেশের কোটি কোটি সিটিজেন খুন জায়েজ হয়।
খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, মানুষের ডেফিনিশন মোটেই ফিজিক্যাল না, বরং কালচারাল। কোন খুনই পারমিট করা যায় না, তা সে অমানুষ হৌক বা আর কোর পরিবারের বা পরিবারের ভিতরের–এমন একটা পজিশন না নিতে পারলে খুনের বিরোধিতা করাই হয় না আসলে।
বরং এইসব ভাবনাই খুন করা দরকার, অনেক ভাবনাই ফালাই আমরা, একটা টাইমে বুঝি যে, অমনটা আর ভাবা যাইতাছে না–ফালতু; যেমন ধরেন, “নদীর পানি ঘোলাও ভালো, জাতের মাইয়া কালাও ভালো।” ফা.ও. ভাবনা কি এখন আর এই কথা রেকটিফাই করবেন? এঁনারা যদি ফালতু ভাবনা না ছাড়েন তাইলে আমাদের বরং এই লোকদেরো ফালাইয়া দিতে হবে।
ওনাদের কাছে সবচে অনুমোদনযোগ্য খুনের থেকেও ফালাইয়া দেওয়াটা কিন্তু ভালো।
–মনু
==============
 
আমার কাছে আপনের চিন্তাটা কমপ্লিকেটেড লাগছে। সমাজতন্ত্রের সব চেয়ে সুন্দর বিবর্তন হইছে, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ গুলোতে। এইটাকে এখন নরডিক মডেল বলে। নরডিক মডেলে ওয়েল ফেয়ার স্টেটের বেসিস হইলো, তারা মনে করে রাষ্ট্রের সকল মেম্বার একটা পরিবার। পরিবারের একজন যদি খারাপ অবস্থায় থাকতে তবে বাকিরা তাদের দায়িত্ব নেয়। তাকে হেল্প করে, তাকে আবার চাকুরীতে ঢুকতে হেল্প করে। ফ্যামিলিতে যেই রকম, যাদের উপারজন বেশি তারা বেশি কন্ট্রিবিউট করে । রাষ্ট্র ব্যাপক ইন্টারেপ্ট করে বিজনেস, সোসাইটি সকল ক্ষেত্রে। তাদের কাছে রাষ্ট্রটা একটা ফ্যামিলি। বললাম এই জন্যে, রাষ্ট্রের সকলে একটা পরিবার এই চিন্তাটা নতুন না। পরিবারের ভেতরে খুন হইতে পারে, পরিবারের বাহিরেও একটা মানুষ খুন করতে পারে। কিন্ত, সেইটাতো এই লেখার কন্টেক্সট না। কন্টেক্সট হইলো, রাষ্ট্রে আমরা সকলকে , আদার বা অপর হিসেবে দেখতেছি। কিন্ত, আমরা যদি দেখি, যারা খুন হইতেছে তারা আদার নয়, আমার। কারন, আমার সাথে তার যে জাতি ধর্ম বিশ্বাসের ডিফারেন্স আছে, সেইটার ভেতরে নাগরিক হিসেবে আমরা, আদার নই -তাইলে সচেতনতা আসতে পারে বিভিন্ন পক্ষ বিপক্ষের মধ্যে। সিম্পল চিন্তা। কিন্ত আপনার চিন্তাটা ঠিক আছে কিন্ত, কম্পলিকেটেড লাগলো। এই জন্যে অকামস রেজার এপ্লাই করলাম। smile emoticon।
–জিয়া হাসান
===========
আইডিয়া অব ফেমিলি কইবার উপায় নাই, আইডিয়াস অব ফেমিলি কইতে হয়; কেননা, ফেমিলির ধারনা অনেক।

নর্ডিক ফেমিলির ধারনা আমাদের নাই, তেমন হইতে চাওয়া নয়া কলোনাইজেশন হবে অনেকখানিই; ফেমিলিরে বাংলায় পরিবার ধরতে রাজি হইলে দেখবেন, পরিবার বলতে বউরে বোঝায় বাংলাদেশের অকলোনাইজড মাইন্ডেরা। ফেমিলির কাছাকাছি বংশের আইডিয়া আছে বরং, বা রক্ত। যৌতুকের ব্যাপারটা দিয়া ভাবলে বুঝবেন, বউয়েরা কখনোই বংশের ভিতর ঢুকতেই পারে না, নিজেরা চাইলেও। আর ফেমিলি বলতে যেই পুচকে আইডিয়াটা আছে সেইটার সর্বৈব মালিক পোলা/ভাতার/বাপ।

-------------------------

আবার, কালচারালি এই দেশে বংশের মানুষের চাইতে বংশের ইজ্জতের দাম বেশি, ইজ্জত জিনিসটা আবার সরাসরি মাইয়াদের সেক্সের লগে রিলেটেড। মাইয়াদের সেক্স আবার খুবই ক্লাস মাইনা ঘটতে পারবে, এবং নেসেসারিলি ম্যারিটাল। ছেলে-ছেলে বা মেয়ে-মেয়ে একসাথে ঘুমানো, দোস্ত/মিতা/বান্ধবী/সখীরা একসাথে থাকতে পারা দিয়া বরং ভাবতে পারেন এইদেশে হোমোসেক্সুয়ালিটি বরং অনেক পারমিটেড–ওইটা গোয়া মারার ব্যাপারটা দিয়াও বুঝতে পারবেন চাইলে।

নর্ডিক দেশগুলির কিছু দিয়া বাংলাদেশকে ভাবার আগে ভাইবেন প্লিজ: ওইখানে বেশ্যা হওয়া বৈধ, সেক্সুয়াল সার্ভিস কেনাটা ক্রাইম। এর থেকে বাংলাদেশের কতটা দূরে আছে সেইটা ভোলা কি ঠিক হবে?

এমনিতে আই বিলিভ, আমাদের এনভায়রনমেন্টের ব্যাপার ভাবতে ভাবতে প্লানেট আর্থ-এ যাইতে হবে; নর্ডিক দেশেরা সেইখান থেকে এখনো অনেক দূরেই। স্টেটকে বোঝায় তাগো ফেমিলির আইডিয়া একটা ইন্টারমিডিয়েট স্টেজ অব থিংকিং। এছাড়া, এইসব ভাবনা আসলে ক্রিমিনাল মাইন্ডদের থামাবার জন্য ভুল বোঝাবার চেষ্টা, আইডিয়ালের কাছাকাছি ভাবনাটা হইলো–অন্যের বাঁচার হককে রিকগনাইজ করতে পারা–ফেমিলি/স্পেসিস/বংশ/রক্তের আইডিয়া এড়াইয়া।

–মনু
২৩ এপ্রিল ২০১৬