রক মনু

পরমে যাবার সুড়ঙ্গ আছে নাকি গুরুর চরণে?

আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন
দিল ও হি মেরা ফাস গ্যয়ি…

মিডল ক্লাস বাংলা আর্টে নজরুল ইউনিক হইলেন তার এই তুমুল ফিজিক্সে; মাণিক যেই কুসুমরে খুন করছেন সেই কুসুম হইলেন নজরুল; রঠা’র ব্রাহ্ম রোমান্টিসিজম আর মডার্ন পোয়েট্রি যেই অধ্যাত্ম-দর্শন দিয়া মন নামের এক মেটাফিজিক্সরে ফিজিক্সের বস বানাইছেন, নজরুল সেই মনরে বানাইয়া দিছেন প্রেমিকার খোঁপার ফিজিক্সে আটকা পড়া এক কাতর লিটল। নজরুল যেইখানে গেছেন তার দেহ লইয়াই গেছেন, পুরা দেহ লইয়া আটকা পড়ছেন আর কোন দেহে।

-------------------------

ওদিকে রঠা’রা প্রেমিকের গলার ভিতর দিয়া এন্ডোসকপি’র পাইপের মতো হাত ঢুকাইয়া দিছেন, খামচাইয়া ধরতে চাইছেন মন, ধইরা ধুইয়া ধুইয়া শরীরের ঘাম-গু-মুতের ঘ্রাণ ছুটাইয়া ইটার্নাল না করা পর্যন্ত প্রেমে যাইতে পারেন নাই, শরীল এক ডাইভার্সন তাগো কাছে, ভিজা আর আগলি; প্রেমের আগেই প্রেমিকের ভিতর নিখিলের ইনভেনশন করতে হইছে তাগো, তাগো কাছে মানুষ সেই আদি পাপের ফল; আর নজরুল প্রেমিকার মুতের গন্ধে পোয়েট্রি মৌ মৌ করতে দেখতে পারতেন।

পরের কবিদের শরীরে যাইতে কত কত কসরত করতে হইছে! স্বরস্বতীরে চুমাইছেন সুনীল, মূর্তির গায়ে আগে হেভেনলি এট্রিবিউট ঢাইলা তারপর চুমাইতে হইছে সুনীলের, আরো আছিল ফিজিক্সের জেনারেল নলেজ–মূর্তি তো দেবে না পেদে!

কই পাইলেন নজরুল ওই পাওয়ার? তার আগে মোসলমান মীর মশাররফরা তো আরবে ব্রাহ্মণের গুচছগ্রাম বানাইতে বিজি, হিন্দুরা বিজি ইউরোপের আধ্যাত্মিক পাপবোধে, মডার্ন ক্লেদের ঘষায় হেভেনলি হইয়া যাইতে চাইতাছেন–মানুষের জন্মের বেদনায়; এদিকে সামাজিক মানুষের বেকুবি ইনভেন্ট কইরা করুণায় ভিজা হামবড়া লালনেরা গুরুর চরণের সুড়ঙ্গ দিয়া পরম নিখিলে যাইতে বিজি, শরীল তাগো সাধনার ময়দান।

নজরুলের পাওয়ার পয়দা হইছে বাংলার পপ আর উর্দু-হিন্দি মোগল আর্টের ভিতর দিয়া; লেটোর পপ আর্ট লইয়া নজরুল ঢুইকা পড়ছেন নবাবী দরবারে; হাওরের বাই-সেক্সুয়াল জমিদারের ঘেটু হইয়া নাচছেন-গাইছেন, সেই আর্ট মিলাইয়া দিছেন দরবারের বাঈজীর নাচ আর মিউজিকের লগে। নিজের শরীল লইয়া গেছেন অন্যের শরীলের কাছে, নাইচা নাইচা ঘষাঘষির প্রস্তাব দিছেন, ঘষাঘষির গরমে শরীল ফাইটা রস বাইরাইছে মিউজিক হইয়া।

তার টাইমের সেরা আইটেম সং বানাইয়া গেছেন নজরুল।

৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫