কার কার মজা লাগে?

২০০৯ সালে ফেসবুক ফানস্পেস থেকে, এখন আর নাই ফানস্পেস--মনে হয়।
২০০৯ সালে ফেসবুক ফানস্পেস থেকে, এখন আর নাই ফানস্পেস–মনে হয়।

মজার একটা ছবি; মজা কোথায়? কার কার মজা লাগে?

এটি একটি বোকামীর ছবি; বোকামীটা সাদা ড্রেস পরা লোকটার, ক্যমেরার সামনের ছবি তুলতে পোজ দেওয়া ৫ জনেরও। এই ৬ জন একটা মিনিংফুল ছবিই তুলতাছেন–তাদের ভাবনায়, মজা পাওয়া লোকদের কাছে অর্থহীন একদম; তাই এইটা যত না মানুষের ছবি তার চাইতে বেশি কয়েকজন মানুষের বোকামির ছবি। তো, বোকা লোকদের তো রেসপেক্ট করা যায় না; বোকামী হাসি বানায় ভালো, হাসতাছেন মজা পাওয়া লোকেরা।
বোকামী পাবার কিছু সুবিধা আছে; রেসপেক্ট দিতে আমাদের অনিচ্ছা ফুলফিল করা যায়; আরো সুবিধা হইলো, ফটোগ্রাফির ডেফিনিশন নিয়া কোন সন্দেহ হইতে পারে না আর। বাট ফটোগ্রাফির ডেফিনিশন যে আরো আছে সেইটাও আসলে জানাইয়া দিতে থাকে এই বোকামী পাওয়া বা ছবি তোলা এই বোকারা; এইভাবে ঢাকা থাকলেও ছবি তোলার কিছু মিনিং আছে তাদের কাছে। 

-------------------------
ফটোগ্রাফির বিভিন্ন ডেফিনিশন আর তাদের এজেন্ট নিয়া ভাবা যায় একটু; সবচে দরকারি ডেফিনিশন হইলো–ফটোগ্রাফির চিনাইয়া দেবার এ্যবিলিটি; বিভিন্ন মানুষ বা বস্তু যেই যেই ভাবে ইউনিক ফটোগ্রাফি তার অবিকল ছবি তৈরি করে, ফলে ঠিকঠাক চেনা যায়। অবিকৃতির বা রিয়েলিটির ডিসটর্শন না ঘটাবার প্রোমিজ আছে ফটোগ্রাফির; ফটোগ্রাফ নিরব, ফলে গুজব না; বরং দেখায়, এক জায়গার বাস্তবতা আরেক জায়গায় হাজির করে অবিকল, আলোকচিত্র তাই ভ্রমণের/পর্যটনের অল্টারনেটিভ।
রিয়েলিটি ডিসটর্ট না করার ক্যামেরার এই যে রেশনাল প্রোমিজ, এইটা যদি কোনভাবে ভাইঙ্গা পড়ে তাইলে বিরাট ঝামেলা; স্টেটের সার্ভেইল্যান্স এবং কন্ট্রোল–পাসপোর্ট বা থানায় ক্রিমিনালের ছবি তুলে রাখা, এইসবই মিনিং হারাইয়া ফেলে। ব্যাংকের বুথ থেকে এম্বাসির সামনের এতো এতো সিসিক্যামের কী মিনিং থাকে আর নাইলে! প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফিতে বিলিভ নষ্ট হয়, ফলে ক্যাপিটালের প্রোমোশন ঝামেলায় পড়ে; অ্যাডের ছবিরে যদি কনজ্যুমার মিছা কথা ভাবতে থাকে তাইলে কি বিলিভ কইরা কিনবে কমোডিটি?
তাই এই ডেফিনিশনে যেকোন সংশয় বা আর কোন ডেফিনিশনের পসিবিলিটি মশকরার বিষয় বানাইয়া তোলা দরকারি, খুব তাড়াতাড়ি–এই প্লুরালিটি ছড়াইতে দেওয়া রিস্কি। এই ছবি ঐ ডমিন্যেন্ট ডেফিনিশনরে মানে নাই; এইটা ফটোগ্রাফ কিন্তু চিনাইয়া দেবার প্রোমিজ রাখতে পারে নাই, এইটা এমনকি এই ৬ জন বাদে কারো কাছে প্রেজেন্স তৈরিই করতে পারে না; ঐ জায়গায় তারা কি আদৌ হাজির আছিলো কোনদিন–এই ছবি দিয়া কি প্রমাণ করা যাবে সেটি?
ফটোগ্রাফির ডমিন্যেন্ট মিনিং আর ডেফিনিশনকে আনসেটেল্ড করে দেওয়া এই ছবি নিয়া তাই হাসা দরকার, ঠাট্টাবস্তু বানাইয়া তোলা দরকার, তাই ফেসবুকের/সোস্যাল মিডিয়ার ফানস্পেস-এ তুলে দিয়া কালেকটিভ হাসির আয়োজন করা দরকার।
এইভাবে শাসক তার ভলান্টারি এজেন্ট পাইয়া যায়, খরচ ছাড়াই, ভাড়া না করেই; এরাই আবার হাসে অন্যের বোকামী লইয়া। তবে বোকামী আসলে করে না কেউ, বোকামী একটা ইনভেনশন; চিনাইয়া দেবার রেসপন্সিবিলিটি নিতে রাজি না হওয়া এই ৬ জন বোকাই হইলো, রেবেলিয়াস-বিদ্রোহী নয়; অধিপতির আত্মতুষ্টি এমনকি বিদোহ্রের সম্ভাবনা নাকচ করে কিংবা এই বিদ্রোহ এতটা “অসন্ত্রাসী” দার্শনিক যে মোকাবেলায় অধিপতিদের আগ্নেয়াস্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়ে, ওদিকে একে নির্মূলের দার্শনিক যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত না থাকা নিরাপদ রাস্তায় হাঁটায় অধিপতিকে-ঠাট্টাবস্তু বানানো।
2বোকামীর আবিস্কার, ঠাট্টাবস্তু বানানো অবশ্য একটু কসরত কইরাই করতে হইছে। পরের ছবিটা ক্লিয়ার করে সেইটা। এই ফটোগ্রাফে চিনাইয়া দেবার ডেফিনিশনটাও হাজির আছে; কিন্তু সেটা একমাত্র না, সেটা বিবিধ ডেফিনিশনের একটা মাত্র। ৫ জন মডেল যেকোন একটি সংজ্ঞার খুপরিতে ঢুকতে হলে সরে যেতে হবে নিজেদের ইচ্ছা থেকে এবং সেই ফটোগ্রাফি নিজের ইচ্ছাপূরণ নয় বরং ডমিন্যেন্ট ডেফিনিশনের বয়ানে ভরসা রাখতে রাজি হওয়া, নতি। এই নতিতে রাজি হয়েছেন ফেসবুকের মজা পাওয়া লোকেরা, ঐ ৬ জন হইতে পারেন নাই।
ফেসবুকে ফানস্পেসের ইমেজটায় ইসলাম একটা ইস্যু; টুপি, বোরকা ইসলামকে হাজির রাখে। ইসলাম কথিতভাবে বা ঘোষিতভাবে একবাদী হবার পরেও প্লুরালিটিকে রিকগনাইজ করতে পারলো, পারেনি সেক্যুলার মশকরাকারীগণের ঔদার্যের দাবি। মোসলমানের প্লুরালিটির বিপরীতে আমরা পাইলাম খুনী সেক্যুলার এই মশকরা।
এই দুই ইমেজ ফটোগ্রাফির ডেফিনিশনের আরেকটা গোপনতা ফাঁস কইরা দেয়। ফটোগ্রাফি যত না ‘লাইট রিফলেক্টর’দের ছবি বানায় তার থেকে বেশি সম্ভবতঃ রিফলেক্টর বা প্রতিফলক সম্পর্কে ফটোগ্রাফারের চিন্তা, উপলব্ধিরে ছবি বানাইয়া রাখে। ফেসবুকে ছবি আপলোড করার বেলায় আপলোডার ফটোগ্রাফির ডেফিনিশনকে নিরংকুশ/অদ্বিতীয় করতে পর্যাপ্ত পরিবর্তন করছেন, নাইলে ঠাট্টা সংহতি হারায়, বিবিধতার উপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে এক-এর তুষ্টি ও আধিপত্য।
vola
ফেসবুকে ছড়ানো ভোলার এক সরকারি গার্লস স্কুলের ছবি
নোট:: ২০০৯ সালে ফেসবুক ফানস্পেস-এ ছড়ায় ঐ ছবি; তখন শিল্পরূপ নামে একটা ত্রৈমাসিক বা মাসিক পত্রিকায় লিখছিলাম; সেই লেখার ল্যাঙ্গুয়েজ আর ইউজ করি না, পড়তে গেলে আমারই বিদঘুটে লাগে এখন, আমার কিছু পাঠক না বোঝার অভিযোগ করতেন সেইসব লেখার, তাগো কাছে মাফ চাই এখন; সেই লেখারে এডিট করলাম, আজকে ভোলার এক সরকারি গার্লস স্কুলের একটা ছবি ফেসবুকে দেইখা। এডিট বলতে নতুন কোন ভাবনা ঢুকাই নাই--ল্যাঙ্গুয়েজ পাল্টানোরে যদি ভাবনা ঢুকানো না ধরি। পেইনফুল ছিলো এই এডিটিং, করলাম তবু...
এখনকার লেখার ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়াও অভিযোগ পাই, বাট সেইগুলা রুচিগত, বোঝাগত না বিশেষ বা বোঝাগত হিসাবে বললেও রুচিগত হিসাবে দেখি আমি, তাই পাত্তা দেই না!